মূল কন্টেন্টে যান
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬ · নিউইয়র্ক
বিনোদন

সমাজ বদলাতে নয়, মানুষকে আনন্দ দিতে এসেছি: জেমস

সমাজ বদলাতে নয়, মানুষকে আনন্দ দিতে এসেছি: জেমস

গিটার হাতে ঘরছাড়া এক তরুণের স্বপ্ন ছিল গান। চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিং থেকে শুরু হওয়া সেই পথচলা তাকে এনে দিয়েছে আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা। ফারুক মাহফুজ থেকে হয়ে উঠেছেন জেমস—বাংলা রকসংগীতের ‘গুরু’। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তার কণ্ঠ ও গিটারের জাদুতে মেতেছে একের পর এক প্রজন্ম। আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) ৬১ পেরিয়ে ৬২ বছরে পা রাখলেন নগর বাউলখ্যাত এই সংগীত তারকা।

নওগাঁয় জন্ম হলেও জেমসের বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে।

সেখানেই ব্যান্ড সংগীতের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয় তার। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই বাবা বুঝতে পেরেছিলেন, ছেলের মন পড়ে আছে অন্য কোথাও। বাবার সঙ্গে অভিমান করে একদিন গিটার হাতে ঘর ছাড়েন তরুণ জেমস। আশ্রয় হয় চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিংয়ে।

বন্ধুদের নিয়ে গড়ে তোলেন ব্যান্ড ‘ফিলিংস’। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ঝাঁকড়া চুল, বাবরি দোলানো আর স্বতন্ত্র কণ্ঠের এই শিল্পী ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন বাংলা রকসংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ। ভক্তদের ভালোবাসায় পেয়েছেন ‘গুরু’ উপাধি।

জন্মদিন ঘটা করে উদযাপন করেন না জেমস। তবে বিশেষ দিন উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর পূর্বাচলের একটি ক্লাবে নিরিবিলি সময় কাটিয়েছেন তিনি। সেখানে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংগীতের ভবিষ্যৎ, নতুন প্রজন্মের শিল্পী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং শিল্পের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন এই রকস্টার।

‘মানুষের এখন পুরো একটি ট্র্যাক শোনারও ধৈর্য নেই’

সংগীতের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের প্রতিভা নিয়ে প্রশ্ন নেই জেমসের। তার মতে, গান তৈরির ধরন ও শোনার অভ্যাস বদলে যাচ্ছে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা যেমন গানকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে, তেমনি বদলে দিচ্ছে শ্রোতার মনোযোগের ধরনও।

জেমসের ভাষ্য, ‘এ পর্যন্ত যত গান তৈরি হয়েছে, যদি নতুন কোনো গান নাও তৈরি হয়, তবু মানুষ আগামী ২০ বছর অনায়াসেই সেগুলো শুনতে পারবে। আর এখন যেহেতু গান স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে চলে গেছে, তাই এটি খুব সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। যা বিনামূল্যে পাওয়া যায়, মানুষের তার প্রতি আকর্ষণ কমে যায়। মানুষের এখন পুরো একটি ট্র্যাক শোনারও আর ধৈর্য নেই।’

প্রযুক্তির পরিবর্তন মেনে নেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছেন এই শিল্পী। তার কথায়, ‘পরিবর্তন মেনে নিতে হবে। এআই এখন নিজেই কোড লিখছে, ফলে আলাদা কোডারদের প্রয়োজনীয়তা কমে আসছে। কিন্তু কোনো শিল্পরূপ বিলুপ্তির পথে থাকলেও তা প্রায়শই ভালোবাসা ও আবেগের কারণেই টিকে থাকে।’

শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। আবশ্যকীয় ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা আছে *।