স্বামীসহ কারাগারে সেই শান্তা ফারজানা
রাজধানীর শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় নতুনধারা বাংলাদেশের (এনডিবি) চেয়ারম্যান মোমেন মেহেদী ও তার স্ত্রী ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানাসহ গ্রেপ্তার ছয়জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
জুলাইযোদ্ধা ও রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের (এসডিএএফ) কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াসসহ কয়েকজনকে গুরুতর আহত করার অভিযোগে বুধবার বিকালে তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মনিরুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্র পক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি টাইমস অব বাংলাদেশেকে নিশ্চিত করেন।
কারাগারে যাওয়া অন্য আসামিরা হলেন সংগঠনটির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. নুরজাহান নীরা (৪০), যুগ্ম মহাসচিব মনিরুজ্জামান (৪৭), সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব মণ্ডল (৪০) ও হরি সরকার (৩৬)।
জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মনিরুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। শুনানি শেষে আদালত চার আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তবে শান্তা ফারজানা ও মোমেন মেহেদীর পক্ষে একাধিক আইনজীবী থাকায় ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) সিদ্ধান্তের পর তাদের জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো রিমান্ড আবেদন না থাকায় তাদের মূল এজলাসে তোলা হয়নি।
মামলা ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে বাবুল সরদার নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৫০-৬০ জনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় এ মামলা করেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৭টার দিকে প্রেস ক্লাবের সামনে আসামিরা রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিয়ে একটি মিছিল বের করেন।
এ সময় উপস্থিত জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য এবং এসডিএএফের সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াসসহ অন্যরা মিছিলের প্রতিবাদ জানালে আসামিরা দেশি ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোঁটা, এসএস পাইপ ও চেয়ার নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। ১ নম্বর আসামি শান্তা ফারজানা হত্যার উদ্দেশ্যে এসএস পাইপ দিয়ে আঘাত করে আল নূর মোহাম্মদ আয়াসের মাথা, মুখমণ্ডল ও দুই হাত রক্তাক্ত জখম করেন। হামলায় জুলাইযোদ্ধা মহসিন, আশরাফুল, তাওহীদ এবং মামলার বাদী বাবুল সরদার নিজেও আহত হন। পরে স্থানীয়রা আয়াসকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এজাহারে বাদী আরো উল্লেখ করেন, আসামি শান্তা ফারজানা ও মোমেন মেহেদী ইতিপূর্বে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে শেখ হাসিনাকে বৈধ এবং তারেক রহমানকে অবৈধ আখ্যা দেন।



