মক্কা জোটে বাংলাদেশকে চায় পাকিস্তানের জামায়াত
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইরান, বাংলাদেশসহ অন্যান্য মুসলিম দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের আমির হাফিজ নাঈম। তিনি বলেছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ফিলিস্তিন। রোববার (৪ অক্টোবর) জেআই আয়োজিত গাজা মার্চে হাজারো মানুষের সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।
হাফিজ নাঈম বলেন, এতে অন্যান্য মুসলিম দেশকেও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।
তিনি বলেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধবিরতির শর্তও ইসরায়েল পুরোপুরি মানেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনও ইসরায়েল পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন জেআই প্রধান।
মুসলিম উম্মাহকে সাম্প্রদায়িক, রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক বিভাজন কাটিয়ে ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরের নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। শিয়া ও সুন্নি বিভেদ ভুলে অভিন্ন সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথাও বলেন নাঈম।
জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের আমির জানান, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ গাজা ও ফিলিস্তিনের মানুষের প্রতি সংহতি জানিয়ে পালন করা হবে। একইসঙ্গে পেট্রোলিয়াম লেভি, কর ও মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৭ অক্টোবরের পর দলের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।
গাজায় যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে দাবি করে নাঈম বলেন, ভূখণ্ডটির বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে। পশ্চিম তীরেও শিশুদেরসহ ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করেছিল বলেও মন্তব্য করেন জেআই আমির। পরবর্তী ইসরায়েলি সামরিক অভিযান দেশটির নীতিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে উন্মোচিত করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
হামাসের লড়াইকে বৈধ প্রতিরোধ হিসেবে উল্লেখ করে নাঈম বলেন, যুদ্ধবিরতি আলোচনাতেও সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আল-আকসা মসজিদের স্বাধীনতার জন্য প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
নাঈম বলেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ প্রমাণ করেছে যে দৃঢ় সংকল্প ও সাহসের মাধ্যমে প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী বাহিনীকেও চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব। ফিলিস্তিনে আরও রক্তপাত বন্ধে মুসলিম দেশগুলোর সরকার ও সেনাবাহিনীর দায়িত্ব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গাজার পরিস্থিতি ইসলামী আন্দোলনগুলোর মধ্যে আরও বেশি ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যেও ফিলিস্তিনিরা হামাসকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।



