মূল কন্টেন্টে যান
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ · নিউইয়র্ক
আমেরিকা

বিশ্ববাজারে ডিজেল দেবে রাশিয়া: মার্কিন প্রেসিডেন্ট

বিশ্ববাজারে ডিজেল দেবে রাশিয়া: মার্কিন প্রেসিডেন্ট
বিশ্ববাজারে ডিজেল দেবে রাশিয়া: মার্কিন প্রেসিডেন্ট

রাশিয়া অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাজারে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই নিউজ জানায়, আগামী কয়েক মাসে আরো বিপুল পরিমাণ ডিজেল পাঠাবে মস্কো।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ‘খুবই সফল আলোচনা’র পর শুক্রবার (স্থানীয় সময়) এ ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, নভেম্বর মাসে রাশিয়া আরো পাঁচ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করবে। এর পরপরই পাঠাবে আরো ১০ লাখ টন। এ ছাড়া দেশটির ডিজেল শোধনাগারগুলোর অবস্থা বিবেচনায় অল্প সময়ের মধ্যে আরো ৩০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে।

ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়ার এই ডিজেল সরবরাহের ঘোষণা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের ফলে জ্বালানির দাম দ্রুত কমবে। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পণ্যের দাম কমানো তার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বিশেষ করে কৃষক, পশুপালনকারী ও ট্রাকচালকদের জন্য খরচ কমাতে চান তিনি। রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহের ঘোষণাকে তিনি ‘খুবই বড় ও গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেওয়া হবে না বলে আবারও জানিয়েছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের ঘোষণার মধ্যে রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন, দেশটির ডিজেলবাজারে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য রয়েছে। উৎপাদন দেশের চাহিদার চেয়ে বেশি হলে সীমিত পরিসরে ডিজেল রপ্তানি আবার চালুর বিষয়টি বিবেচনা করবে মস্কো। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস এ তথ্য জানিয়েছে। নোভাক বলেন, অক্টোবর মাসের জন্য ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আবারও বাড়ানো হয়েছে।

তবে দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি সরবরাহের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, রাশিয়ার পক্ষে অতিরিক্ত জ্বালানি মজুদ করে রাখা সম্ভব নয়। সংরক্ষণাগারে জায়গার অভাব হলে তেল শোধনাগারগুলোকে উৎপাদন কমাতে হতে পারে। এতে অন্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের উৎপাদনও কমে যেতে পারে।

তাসের বরাতে নোভাক বলেন, রাশিয়া দেশের অভ্যন্তরে যত ডিজেল ব্যবহার করে, তার চেয়ে ৮০ শতাংশ বেশি উৎপাদন করে। ফলে দেশের চাহিদা মেটানোর পরও অতিরিক্ত ডিজেল থেকে যায়। কিন্তু সংরক্ষণাগারে জায়গা না থাকলে শোধনাগারগুলোতে তেল পরিশোধনের পরিমাণ কমাতে হবে। এতে চাহিদাসম্পন্ন অন্য জ্বালানি পণ্যের উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) ২০২৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তেলবাজারবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যুদ্ধ শুরুর আগের দামের তুলনায় তা ৯৪ শতাংশ বেশি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল পরিশোধন খাতের সংকট বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। আইইএর তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির তুলনায় আগস্টে উপসাগরীয় দেশগুলো ও রাশিয়া থেকে ডিজেল এবং গ্যাস অয়েলের নিট রপ্তানি দৈনিক ১৬ লাখ ব্যারেল কমেছে। এ ছাড়া যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্বজুড়ে পর্যবেক্ষণ করা তেলের মজুদ কমেছে ৫০ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে ইরানকে সহায়তা করতে মস্কো তার সাধ্যের মধ্যে সব কিছু করবে। তুর্কমেনিস্তানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন পুতিন। বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। আবশ্যকীয় ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা আছে *।