মর্গে প্রেমিকের লাশ দেখার পর নার্সের মৃত্যু, আত্মহত্যা বলছে পুলিশ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের একটি বাথরুম থেকে বারডেম হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স তন্ময়ী মণ্ডলের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, প্রেমিকের মৃত্যুর পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন তিনি। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সোমবার (০৫ অক্তোবর) সকালে ঢামেক হাসপাতালের পুরোনো ভবনের ১১০ ও ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝামাঝি একটি বাথরুমের ৪ নম্বর কক্ষ থেকে তন্ময়ী মণ্ডলের লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, ওইদিন সকাল ১০টার দিকে দৈনিক ভিত্তিতে কর্মরত পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাহমুদ শেখ বাথরুম পরিষ্কার করতে যান। নিয়ম অনুযায়ী তিনি কক্ষগুলোর দরজায় নক করে ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের বের হওয়ার অনুরোধ করেন। তবে ৪ নম্বর কক্ষের দরজায় একাধিকবার নক করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে মাহমুদ শেখ তার সহকর্মী রাসেল ও কামালকে ডাকেন। পরে দরজা খুলে তারা তন্ময়ী মণ্ডলকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের আনসার সদস্য ও কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। খবর পেয়ে শাহবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে তন্ময়ীর মৃত্যুর সঙ্গে তার প্রেমিক আকাশ মিত্রের মৃত্যুর যোগসূত্রের বিষয়টি সামনে এসেছে।
পুলিশ জানায়, রোববার ঢাকার পাশের কেরানীগঞ্জে আত্মহত্যা করেন আকাশ মিত্র। পরে তার লাশের ময়নাতদন্ত করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, আকাশের ময়নাতদন্তের সময় তন্ময়ীও মর্গে উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য, মর্গে প্রেমিকের লাশ দেখার পর তন্ময়ী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর হাসপাতালের ভেতরেই কোনো একসময় নিজের হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন তিনি। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় পুরোনো ভবনের নিচতলার ওই বাথরুমে গিয়ে গলায় ফাঁস দেন বলে ধারণা পুলিশের।
তার হাতে কাটার আঘাত ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
তন্ময়ীর পরিবার এবং আকাশ মিত্রের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এসব প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ঠিক কী কারণে তন্ময়ী এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।



